ময়মনসিংহে চাচিকে নিয়ে উধাও ভাতিজা, থানায় অভিযোগ চাচার
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের বৃ-দেবস্থান গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিজের স্ত্রী ও প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এক ব্যক্তি। অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, তার স্ত্রী নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে ওই যুবকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।
অভিযোগকারী মনি চন্দ্র দে জানান, প্রায় সাত বছর আগে ঝর্ণা রানী দে ওরফে মায়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি হোটেলে চাকরি করায় দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। এই সুযোগে তার স্ত্রী প্রতিবেশী রুদ্র চন্দ্র দের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানার পর ঝর্ণা রানীকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি সম্পর্ক থেকে সরে আসেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি মাসের ১ জুলাই রুদ্র চন্দ্র দের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান ঝর্ণা রানী। এ সময় ঘরের আলমারিতে থাকা প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রায় ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
মনি চন্দ্র দে আরও দাবি করেন, ঘটনার পর অভিযুক্তদের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। উল্টো বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকির মুখে পড়ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
রাজিবপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জনি দে বলেন, রুদ্র চন্দ্র দের বিরুদ্ধে নারী-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেশী চাচির সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি সত্য বলে দাবি করে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে অভিযোগকারীকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত রুদ্র চন্দ্র দে ও তার পরিবারের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে রুদ্র চন্দ্র দের চাচা রনজিৎ চন্দ্র দে বলেন, তার ভাতিজার সঙ্গে ঝর্ণা রানীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। তবে রুদ্র তাকে নিয়ে পালিয়ে যাননি। বরং ঝর্ণা রানী তার স্বামীকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবোধ রঞ্জন সরকার বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল আজম বলেন, মনি চন্দ্র দের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।