মোহাম্মদ আলি বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলতে উঠেপড়ে লেগেছে বিজেপি সরকার, কিন্তু কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ এএম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের রামপুরে মোহাম্মদ আলি জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন ভেঙে ফেলার সরকারি নির্দেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় পতাকা হাতে আন্দোলনে নেমেছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টি রক্ষা করতে সরকারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী মোহাম্মদ আলি জওহরের নামে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি সমাজবাদী পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আজম খানের উদ্যোগে গড়ে ওঠে। গত ১৫ জুলাই রামপুর জেলা প্রশাসন জানায়, ২৫০ একরজুড়ে বিস্তৃত ক্যাম্পাসের ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টি অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিজ খরচে ভবনগুলো অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় সরকারি উদ্যোগে ভবনগুলো ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে রাজ্য প্রশাসন এই নির্দেশের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জহিরউদ্দিন জানান, এটি কেবল সময় বাড়িয়েছে, তবে ভবন ভাঙার নির্দেশ এখনো বাতিল হয়নি।

সরকারের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে অভিযোগ তুলেছে সমাজবাদী পার্টি। দলটির নেতাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা এবং এর সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির সম্পৃক্ততার কারণেই এটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়াও সরকারের সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে তাদের অভিযোগ।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির দাবি, এখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তাদের ভাষ্য, অবৈধ জমি ব্যবহার এবং অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবনগুলো নির্মাণের সময় সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা ছিল না, কারণ ওই এলাকা অনেক পরে কর্তৃপক্ষের আওতায় আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যাদের বড় একটি অংশ নারী। শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, ভবন ভেঙে দেওয়া হলে বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিন্দু শিক্ষার্থীও পড়াশোনা করছেন। তাদের বক্তব্য, এখানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য নেই এবং সব শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পান।

এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদদের একাংশের অভিযোগ, উত্তর প্রদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম মালিকানাধীন বা পরিচালিত বিভিন্ন স্থাপনার বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযান এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ বেড়েছে। যদিও রাজ্য সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে।

বর্তমানে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। তাদের ঘোষণা, বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষায় আইনি ও সামাজিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970