মার্কিন রাষ্ট্রদূতের যোগদান আটকে রেখেছে ব্রাজিল, ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত ড্যানিয়েল পেরেজের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক অনুমোদন এখনো দেয়নি ব্রাজিল সরকার। কয়েক সপ্তাহ ধরে এ অনুমোদন আটকে থাকায় ওয়াশিংটনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর জেরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। চলমান বিরোধের কারণে নির্বাচনের আগে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূত নাও থাকতে পারেন। ইতোমধ্যে এর প্রভাব দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও পড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগও উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড্যানিয়েল পেরেজকে গত ১ জুন ব্রাজিলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্রাজিল সরকারের আনুষ্ঠানিক সম্মতি নেওয়ার আগেই এই মনোনয়ন দেওয়া হয়। কূটনৈতিক পরিভাষায় এ ধরনের পূর্বানুমতিকে ‘আগ্রেমো’ বলা হয়।

ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ার কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কূটনৈতিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করে মনোনয়ন দেওয়াকে তারা অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটির অনুমোদন পেলেও ব্রাজিলের সম্মতি ছাড়া ড্যানিয়েল পেরেজ দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না।

মার্কিন প্রশাসনের দুটি সূত্র জানিয়েছে, ব্রাজিলের দীর্ঘসূত্রতায় ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ। চলতি সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্র শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

বিশ্লেষকদের মতে, বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকারের সঙ্গে মার্কো রুবিওর নেতৃত্বাধীন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। লুলা প্রশাসনের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকায় রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ব্রাজিলের বিচার বিভাগ রক্ষণশীলদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রয়েছে। সিনেটের পরামর্শ ও সম্মতির ভিত্তিতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে কূটনৈতিক দল গঠন করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে বিদেশি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

ব্রাজিলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক নিয়ম অনুসারেই ড্যানিয়েল পেরেজের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। তাদের একজন বলেন, ৪ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে অনুমোদন নাও দেওয়া হতে পারে। তবে আগ্রেমো দেওয়া হবে না—এমন সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সময় নির্ধারণের অধিকার সম্পূর্ণভাবে ব্রাজিলের।

ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী রাষ্ট্রদূত নিয়োগসংক্রান্ত এই প্রক্রিয়া গোপনীয় হওয়ায় তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না। এদিকে ড্যানিয়েল পেরেজের ফ্লোরিডার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার অন্যতম নির্বাচনী স্লোগান ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব’। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো, যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে, নির্বাচনী প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তুলে ধরছেন।

এর আগে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের দুটি অপরাধী সংগঠনকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। পরে বাণিজ্যিক বৈষম্যের অভিযোগে ব্রাজিলের কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। পাশাপাশি জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ তুলে আরও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হয়।

এর কয়েক দিন পর ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে দেশটিতে যেতে চাইলে তাদের ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ব্রাজিল। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে প্রেসিডেন্ট লুলা ফ্লাভিও বলসোনারোর চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছেন।

সিনেট কমিটির শুনানিতে ড্যানিয়েল পেরেজ বলেন, দায়িত্ব পেলে অক্টোবরের নির্বাচনই হবে তার প্রথম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। জ্বালানি ও কৃষি খাতে এখনো উল্লেখযোগ্য বৈষম্য রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970