অনৈতিক প্রস্তাবে অতিষ্ঠ হয়ে রুমমেটকে হত্যার পর ৭ টুকরা, পুলিশের লোমহর্ষক বর্ণনা

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া কাটা হাত, পা ও মাথাসহ মানবদেহের বিভিন্ন অংশ একই ব্যক্তির—এমন তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত ঘাতককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

তদন্তে জানা গেছে, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যার পর তার মরদেহ সাত টুকরো করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন তারই রুমমেট শাহীন। অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়া-বিবাদের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে অভিযুক্ত।

রোববার মিন্টো রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশ মিডিয়া সেন্টার-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন-অর-রশীদ জানান, নিহতের দেহের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। আমিনবাজার সেতু এলাকা থেকে তা ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহত ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে বিপণন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। অপরদিকে শাহীন হিরাঝিল এলাকার একটি হোটেলে চাকরি করতেন। তারা মতিঝিলের কবি জসীম উদ্‌দীন সড়কের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।

ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করা হয়। এরপর রাত ৯টার পর মরদেহের খণ্ডিত অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার রাতে সিগারেট আনা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে খাবার আনা নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়। গভীর রাতে ফোনে কথা বলাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া চরমে পৌঁছায়। একপর্যায়ে গালিগালাজের ঘটনা ঘটে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতে গোসলখানায় কাপড় ধোয়ার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘাড় ও গলায় আঘাত করে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে শাহীন। পরে নিজের দায় এড়াতে মরদেহ টুকরো করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়।

নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি ফটকের পাশে একটি পা, কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাথা এবং মতিঝিল এলাকায় ময়লার পাত্রে ড্রামভর্তি দেহাংশ পাওয়া যায়। এছাড়া আরও কিছু অংশ আমিনবাজার সেতু এলাকা থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ঘাতক।

পুলিশ জানায়, খণ্ডিত দেহাংশ ফেলার দৃশ্য ধারণ করা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত নিজেও হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি তাকে মাঝে মাঝে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন, যা তিনি মেনে নিতে পারেননি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পূর্বেও বিরোধ ছিল। হত্যার পরও সে স্বাভাবিকভাবে কর্মস্থলে যাতায়াত করছিল। পরে হিরাঝিল এলাকার একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ধারাবাহিকভাবে কাটা হাত-পা ও মাথা উদ্ধার হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তদন্ত শেষে সব দেহাংশ একই ব্যক্তির বলে নিশ্চিত করে পুলিশ।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970