মোজতবা খামেনিকে ধরিয়ে দিতে কোটি ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিলো যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ধরিয়ে দিতে বা তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে সর্বোচ্চ এক কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য দিলেও পুরস্কার দেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস পরিচালিত ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
কর্মসূচির এক বিবৃতিতে বলা হয়, তালিকাভুক্ত এসব ব্যক্তি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিভিন্ন শাখার নেতৃত্ব দেন এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, সংগঠন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ব্যানারে তাদের ‘ইরানি সন্ত্রাসী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। এতে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পাশাপাশি আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকায় রয়েছেন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব, উপপ্রধান কর্মকর্তা সৈয়দ আলী আসগর হিজাজি, মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস্কান্দার মোমেনি এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব ব্যক্তি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোর সদস্য এবং ওয়াশিংটনের অভিযোগ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন অভিযান পরিকল্পনা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত।
কর্মসূচি জানিয়েছে, এসব ব্যক্তির অবস্থান বা তাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলে তথ্যদাতারা আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি পুনর্বাসনের সুযোগও পেতে পারেন। নিরাপদ যোগাযোগের জন্য এনক্রিপটেড বার্তা আদান–প্রদান ব্যবস্থা কিংবা টর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কর্মসূচির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ এক কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হতে পারে, যা এই কর্মসূচির আওতায় ঘোষিত বড় অঙ্কের পুরস্কারগুলোর একটি।
ওয়াশিংটনের দাবি, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাতের শুরুর দিকে নিহত হন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি। এরপর তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সূত্র: রয়টার্স