‘নাম আব্দুর রহিম, বিকাশ নম্বর মেম্বার-চেয়ারম্যানের’: ভাতা নিয়ে সংসদে এমপির অভিযোগ

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার অর্থ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিষয়টি সরকারের নজরে আনার আহ্বান জানিয়েছেন নড়াইল-২ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে ভাতাভোগীর নামে বরাদ্দ থাকলেও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর হিসেবে অন্য ব্যক্তির—বিশেষ করে স্থানীয় মেম্বার বা চেয়ারম্যানের নম্বর ব্যবহার করা হয়।

রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ বিষয়টি উত্থাপন করেন। সংসদ সদস্য বলেন, বাস্তবে এমন অনেক ঘটনা দেখা যায় যেখানে ভাতাভোগীর নাম থাকে আব্দুর রহিম, কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর হিসেবে ব্যবহার করা হয় স্থানীয় মেম্বার বা চেয়ারম্যানের নম্বর। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে অনেক এলাকায় যদি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সরকারদলীয় না হন, তবে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করেন। এর ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অনেক সময় কেবল প্রতীকী ভূমিকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েন। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এমন পরিস্থিতি দূর করতে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়েও জানতে চান তিনি।

এ প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন বলেন, বিষয়টি সংসদের কার্যতালিকায় না থাকায় ভবিষ্যতে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে তিনি জানান, বর্তমান সরকার সব ধরনের স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম দূর করে সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে ভাতা বিতরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও সমস্যার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে সবার জন্য সমতাভিত্তিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।

মোবাইলের মাধ্যমে ভাতা বিতরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় গ্রামীণ এলাকার বয়স্ক বা অসহায় মানুষ নিজেরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন না। তখন তারা ছেলে, নাতি বা অন্য কোনো আত্মীয়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেন। ফলে কখনো কখনো কিছু অসংগতি দেখা দিতে পারে।

তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ভাতার অর্থ যেন প্রকৃত উপকারভোগীর কাছেই পৌঁছে—সেটি নিশ্চিত করতে সরকার আরও কার্যকর ও উন্নত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, এই ভাতা ৫০০ বা ৭০০ টাকা হলেও অনেক মানুষের জন্য তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যার টাকা, তা যেন তার কাছেই পৌঁছায়—সেদিকে সরকারের নজর থাকবে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970