বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতা না পেয়ে ক্ষুব্ধ নুর, দিলেন হুঁশিয়ারি
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে জোটের প্রার্থী হলেও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।
বরং বিএনপির বহিষ্কৃত ও বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে একাট্টা হয়ে মাঠে কাজ করছেন দুই উপজেলার অধিকাংশ বিএনপি নেতাকর্মী। এতে নির্বাচনী মাঠে চরম বিব্রত ও ক্ষুব্ধ নুর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি দুর্বল অবস্থানে থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুনের ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে দলের ভিত্তি শক্ত হয়। স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতা শাহজাহান খানের মৃত্যুর পর এলাকাজুড়ে মামুনের প্রভাব আরও বাড়ে। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী একমাত্র প্রার্থী ছিলেন তিনিই। তবে জোটগত সিদ্ধান্তে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয় ভিপি নুরকে, যিনি ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নামেন।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামেন হাসান মামুন। দলীয় পদ ছাড়ার আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বহিষ্কার করে বিএনপি। বহিষ্কারের পরও মাঠ ছাড়েননি তিনি। বরং গলাচিপা ও দশমিনার উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রায় সব বিএনপি নেতাকর্মী প্রকাশ্যেই তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এতে নুরের নির্বাচনী প্রচারণা বড় বাধার মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে নুরুল হক নুর গণমাধ্যমকে বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য বিএনপি মাত্র ১২টি আসন ছেড়েছে, কিন্তু প্রায় সব জায়গাতেই স্থানীয় বিএনপির পূর্ণ সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় নেতারা দলীয় সিদ্ধান্তের চেয়ে ব্যক্তি আনুগত্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিষয়টি তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়ে সমাধানের দাবি জানিয়েছেন বলেও জানান নুর।
তবে নুরের এই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না স্থানীয় বিএনপি নেতারা। গলাচিপা ও দশমিনার একাধিক নেতা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, যে কোনো পরিস্থিতিতেই তারা হাসান মামুনের সঙ্গেই থাকবেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকে বাদ দিয়ে বাইরের কাউকে সমর্থন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গেও কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির তৃণমূলের সমর্থন ছাড়া নুরের জয় কঠিন হবে। একই সঙ্গে একাধিক প্রার্থী থাকায় গলাচিপা উপজেলায় ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে দশমিনায় একমাত্র শক্ত প্রার্থী হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন হাসান মামুন। সবমিলিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনের ভোটের সমীকরণে বিএনপির এই বিদ্রোহী প্রার্থীই এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।