সেন্টমার্টিন রুটে মৌসুমের প্রথম যাত্রা, তিন জাহাজে ১২০০ পর্যটক

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৮ এএম

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ অপেক্ষার পর শুরু হয়েছে সেন্টমার্টিনমুখী সমুদ্রযাত্রা। ডিসেম্বরের প্রথম দিন সোমবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ছেড়ে যায় তিনটি যাত্রীবাহী জাহাজ—এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ। চলতি মৌসুমের প্রথম ট্রিপেই এসব জাহাজে ছিলেন ১ হাজার ২০০ পর্যটক।

ভোর থেকেই ঘাটে ভিড় করতে থাকেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপ্রেমীরা। টিকিট যাচাই শেষে জাহাজে উঠার আগে যাত্রীদের হাতে পরিবেশবান্ধব পানির বোতল তুলে দেয় প্রশাসন।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক অরুপ হোসেন বলেন, “প্রথমবার সেন্টমার্টিন যাচ্ছি। ভ্রমণটা খুবই রোমাঞ্চকর লাগছে। প্রশাসনের তৎপরতা দেখেও ভালো লাগছে।”

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজগুলোতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক যেতে পারবেন। দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। সব যাত্রীকে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রাভেল পাসসহ কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। কিউআর কোড ছাড়া যেকোনো টিকিটকে নকল হিসেবে গণ্য করা হবে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, প্রশাসন ছয়টি জাহাজকে অনুমতি দিয়েছে। যাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় প্রথম দিনে তিনটি জাহাজ ছেড়ে গেছে। জোয়ার-ভাটা ও নাব্যতা অনুযায়ী প্রতিদিন যাত্রার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন পৌঁছে জাহাজগুলো বিকেলে আবার কক্সবাজারে ফিরে আসবে।

গত বছর থেকে টেকনাফ–সেন্টমার্টিন রুট বন্ধ থাকায় এখন কক্সবাজার থেকে দীর্ঘ সমুদ্রপথ অতিক্রম করেই পৌঁছাতে হয় পর্যটকদের। এতে কিছুটা ক্লান্ত লাগতে পারে বলে মনে করেন পর্যটক রোকসানা আলী। তার ভাষায়, “আগে টেকনাফ থেকে দ্রুত যাওয়া যেত। এখন পথটা দীর্ঘ, একটু কষ্টের। তবে সেন্টমার্টিনে পৌঁছালেই সব কষ্ট ভুল হয়ে যায়।”

ঘাটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রবেশমুহূর্তে চলছে তল্লাশি। ট্যুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, জাহাজ ও দ্বীপজুড়ে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ১২টি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে-

* রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো নিষিদ্ধ
* উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান বা বারবিকিউ নয়
* কেয়াবনে প্রবেশ ও কেয়াফল সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা
* সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়াসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি নিষিদ্ধ
* সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরযান চলাচল নিষিদ্ধ
* পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক থেকে বিরত থাকার নির্দেশ

জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, পরিবেশ রক্ষার নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসন কঠোর থাকবে। এ ক্ষেত্রে পর্যটক ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

গত ১ নভেম্বর দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হলেও রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় নভেম্বর মাসে কোনো জাহাজ চলেনি। ডিসেম্বরের প্রথম দিনেই তাই শুরু হলো নতুন মৌসুমের সমুদ্রযাত্রা।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970