জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারীরাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বিক্রির মতো বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়েছিল, সেই গোষ্ঠীই এখন আবার জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি ইঙ্গিত করে বলেন, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগীরা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করার জন্য নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়েও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে এবং এখনো সেই অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিনভর যশোরে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রির নামে সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি করেছিল, তারাই উনিশশ একাত্তর ও উনিশশ একানব্বই সালেও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল এবং এখনো একইভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচার পতনের পর যারা ফ্যাসিবাদকে ক্ষমা করার কথা বলেছিল, তারাই এখন আবার অপপ্রচারে নেমেছে। কোনো ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এই দেশের মাটিতেই হবে এবং জুলাই সনদ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণ সরকারের ওপর আস্থা রেখে দায়িত্ব দিয়েছে এবং সেই দায়িত্ব বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হবে না। দলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছে এবং আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে।
দেশে নতুন করে অস্থিতিশীলতা বা হরতালের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি না করতে সবার প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থনীতি ও কৃষি উন্নয়ন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী বিশ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি খালভিত্তিক মৎস্য চাষ ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালু করা, দক্ষ জনশক্তি বিদেশে রপ্তানি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের টিকাদান এবং বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।