মনে হয় রাষ্ট্রযন্ত্র কিংবা প্রশাসন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত: আখতার হোসেন
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১৯ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্র কিংবা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, হত্যার সঙ্গে জড়িতরা দেশে লুকিয়ে আছে নাকি ভারতে পালিয়েছে—এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা দিতে পারেনি, যা সন্দেহ আরও বাড়াচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আখতার হোসেন বলেন, খুনি পরিচিত ও তার পরিচয় প্রকাশ্য হওয়া সত্ত্বেও সে কীভাবে খুন করে পালিয়ে গেল বা আত্মগোপনে থাকছে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার মতে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি বড় ও সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, খুনিরা বাইরে ঘুরে বেড়ালে গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে কারও অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন হবে না এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, নানাভাবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার ও খুনিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। গত দেড় বছরে হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, পতিত আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। গণঅভ্যুত্থানের পর প্রকৃত বিচার কার্যকর হলে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটত না বলেও তিনি দাবি করেন।
এ সময় এনসিপির রংপুর জেলা ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে রংপুর নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতি ও টাইপোগ্রাফি অঙ্কন কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।