চরমোনাইকে ছাড় দিতে গিয়ে চাপে জামায়াত, ভাঙনের মুখে ইসলামি জোট

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

চরমোনাই পীরকে এক ডজনের বেশি আসনে ছাড় দিতে গিয়ে রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ইসলামি জোট ভাঙনের মুখে পড়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। মূলত আসন ভাগাভাগি নিয়ে চরমোনাই পীরের অনড় অবস্থানের কারণেই জোটগত নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী ৪০টি আসন ছাড় দিতে সম্মত হলেও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন তাতে সন্তুষ্ট নয়। দেশব্যাপী বড় ভোটব্যাংক থাকার দাবি করে তারা আরও বেশি আসনের দাবিতে অনড় রয়েছে। দফায় দফায় বৈঠক হলেও এ বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এমনকি ৪০ আসনের বাইরে আরও কিছু আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবেও চরমোনাই রাজি হয়নি।

প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী চরমোনাই পীর ও মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে প্রার্থী দেয়নি। এতে দল দুটি জামায়াতের সঙ্গে দরকষাকষিতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও নিজেদের প্রকৃত শক্তির চেয়ে বেশি আসনের দাবি করায় জামায়াতের সঙ্গে তাদের চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শেষ পর্যন্ত চরমোনাই পীরের দল ও খেলাফত মজলিস ১১ দলীয় জোট ছেড়ে আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করে ১১ দলের যৌথ ঘোষণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার খবর পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিন আট দলীয় ইসলামি জোটের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল জামায়াত। তবে জুলাইযোদ্ধাদের সংগঠন এনসিপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং মজিবুর রহমান মনজু ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের নেতৃত্বাধীন এবি পার্টি যুক্ত হয়ে জোট ১১ দলে সম্প্রসারিত হওয়ার পর থেকেই ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব বাড়তে থাকে।

নতুন তিন দলের সঙ্গে ঐক্যের পর জোটে ইসলামি দলগুলোর গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা জোটবদ্ধ নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ হারাতে শুরু করে। কারণ এনসিপি যুক্ত হওয়ায় জামায়াতকে চাপে রাখার সক্ষমতা কমে গেছে বলে তারা মনে করছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের আগে ১১ দলীয় জোট সমঝোতার ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরদিন দেখা যায়, ৩০০ আসনের বিপরীতে প্রায় ৬০০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পরে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সময় স্বল্পতার কারণে এমনটি হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে আসন চূড়ান্ত করা হবে।

জানা গেছে, জামায়াত এনসিপিকে ৩০টি আসন ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে এবং এনসিপি তা আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নিয়েছে। এছাড়া খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি, খেলাফত আন্দোলনকে ১০টি, এলডিপিকে ৭টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে ২টি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে জাগপা, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত আন্দোলনের আসন চূড়ান্ত হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত নয়।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970