মিত্রদের তালিকা হাতে পেলেই প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৩২ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য সামনে রেখে আসন্ন নির্বাচনে শরিক দলগুলোর জন্য আসন ছাড়ের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরই মধ্যে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রায় ৫০টি রাজনৈতিক দলের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে দলটি।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্র জানায়, শরিক দলগুলোর দেওয়া প্রার্থীর তালিকা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। এর ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, জনসমর্থন, এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা—এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। এজন্য দলটি শিগগিরই ফের শরিকদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করতে যাচ্ছে।
এরই মধ্যে গণফোরাম বিএনপির কাছে ১৬ আসনের তালিকা দিয়েছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, এবারও একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) পাঁচটি আসনের দাবি জানিয়ে তালিকা দিয়েছে। এর মধ্যে দলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকা-১৭ এবং মহাসচিব আব্দুল মতিন সাউদ ঢাকা-৫ আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চ এখনো প্রার্থী তালিকা জমা দেয়নি। তবে গণতন্ত্র মঞ্চ জানিয়েছে, আগামী ৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রার্থীদের তালিকা প্রাথমিকভাবে বাছাই করে বিএনপির কাছে জমা দেবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শরিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব অসুস্থ থাকায় তাঁর স্ত্রী তানিয়া রব লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে জানা গেছে। এছাড়া নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-৪), গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬) এবং গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর (পটুয়াখালী-৩) বিএনপির নির্দেশনায় নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, শরিক ও সমমনা দলগুলোর জন্য ২৫ থেকে ৩০টি আসনে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে দলটির। ছোট দলগুলোকেও গুরুত্ব দিয়ে আসন ভাগাভাগির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এলডিপিকে দুটি আসন ছাড়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে—কুমিল্লা-৭ আসনে মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ এবং চট্টগ্রাম-১৪ আসনে কর্নেল অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক সানি প্রার্থী হতে পারেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, “যারা দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে মাঠে থেকে আন্দোলন করেছে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। আসন বণ্টন এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে এ নিয়ে জোরেশোরে আলোচনা চলছে।”
বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ও স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “আমাদের লক্ষ্য জাতীয় সরকার গঠন করা। এজন্য শরিক দলগুলোকে প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাদের তালিকা হাতে পেলে বিএনপি যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”