সংকটাপন্ন খালেদা জিয়া, রাতভর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দেশবাসী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৪০ এএম
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর অবনতি হওয়ায় শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত দেশজুড়ে উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও শুভকামনামূলক পোস্টে ভরে ওঠে ফেসবুক টাইমলাইন। রাত যত গড়িয়েছে, হাসপাতালের ফটকে মানুষের অপেক্ষাও তত বেড়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। নিউমোনিয়ার পাশাপাশি কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘদিনের নানা শারীরিক জটিলতা চিকিৎসাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি না রাখতে সরকারের প্রস্তুতির কথা জানান। তারেক রহমানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার খোঁজখবর নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাতে হাসপাতালে গিয়ে বিএনপির উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থা মোটেও ভালো নয় এবং সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান। দলের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, খালেদা জিয়া সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। একই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও দলীয় নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ জানিয়ে তার আরোগ্য কামনা করেছেন।
এদিকে, নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ায় প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থাকে “আলহামদুলিল্লাহ ভালো” বলে উল্লেখ করেন। তবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সার্বিকভাবে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রাত গভীর পর্যন্ত বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করেন। তবে চিকিৎসায় যেন বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য ভিড় কম রাখতে দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়। এর আগে নয়াপল্টন জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল তার অবস্থা “অত্যন্ত সংকটময়” বলে উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহুদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতাসহ নানা অসুস্থতায় আক্রান্ত। ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ২৭ নভেম্বর অবস্থার অবনতি হলে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। লন্ডন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও ভার্চুয়ালি তার চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করছেন।