কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যা মামলায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর (৫৭) হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আলমগীর হোসেন (১৬) নামের এক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আলমগীর ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, ঘটনার দিন ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে ওই কিশোরকে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আলমগীরের পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তার খালা রোজিনা খাতুন বলেন, রাতের বেলায় আলমগীর নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। পরে পুলিশ এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে নিয়ে যায়। এরপর থানায় নেওয়ার পর তাকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয় বলে পরিবার জানতে পারে।
পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় আলমগীর দরবারে উপস্থিত ছিল না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভাতে গেলে আলমগীর তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। কিন্তু হামলার সময় সে সেখানে ছিল না।
এর আগে এই মামলায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই তাদের শনাক্ত করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পীর শামীম কয়েক বছর আগে ধর্মীয় বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়। এর জেরে গত ১১ এপ্রিল একদল লোক তার দরবারে হামলা চালায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ প্রায় দুই শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর ইসলাম বলেন, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করেই আলমগীরকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।