মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেউ যদি মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার চেষ্টা করে, তাহলে দেশের জনগণ তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। প্রয়োজনে আবারও গণঅভ্যুত্থান ঘটতে পারে। তবে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে কোনোভাবেই অসম্মান করতে দেওয়া হবে না।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর নন্দিয়াপাড়া বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় তারা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের সন্তান হিসেবে তারেক রহমানকে নিয়ে তারা গর্ববোধ করেন।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ ১৭ বছর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। একইভাবে এখন আরেকটি দল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের অর্জন হিসেবে তুলে ধরে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে দেশের জনগণ সচেতন এবং গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল। জনগণ যাকে ভোট দেবে, তারাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। এরপরও বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষ অধিকার আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে আন্দোলন হবে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭১ সালের ইতিহাসকে খাটো করার কোনো সুযোগ নেই। শহীদ জিয়ার আদর্শের কর্মীরা তা মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে নির্যাতন-হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, তাদের রাজনৈতিক উত্তরসূরিদের নানা বক্তব্য এখন সামনে আসছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, আর এটাই জাতির পরিচয় ও গৌরবের ভিত্তি। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পতাকার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো ধারাবাহিক আন্দোলন করেছে। এ সময়ে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের বহু ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশকে একটি প্রতিবেশী দেশের প্রভাবাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী দলও সম্পৃক্ত ছিল এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য কাজ করেছে। এ আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪৮ জন পদধারী নেতা প্রাণ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এ টি এম মোশারেফ হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970