দুর্যোগ কি সরকারি-বিরোধী দল দেখে আসে, সংসদে প্রশ্ন আখতারের

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ত্রাণ ও দুর্যোগ সহায়তা বরাদ্দে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে কোনো বৈষম্য করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তার অভিযোগ, সম্প্রতি দেওয়া টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির বরাদ্দ শুধুমাত্র সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায় দেওয়া হয়েছে, অথচ বিরোধী দলের সদস্যরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তবে এ অভিযোগের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, যেসব সংসদ সদস্য বরাদ্দের জন্য চাহিদাপত্র জমা দিয়েছেন, তারা আগামী দুই দিনের মধ্যেই বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়।

সম্পূরক প্রশ্নে আখতার হোসেন বলেন, দেশের দুর্যোগ পরিস্থিতির মানচিত্রে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না তা নিয়ে তার প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, গত ৩০ এপ্রিল দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা কেবল সরকারি দলের সংসদীয় আসনগুলোতে সীমাবদ্ধ ছিল বলে তিনি দাবি করেন। বিরোধী দলের কোনো আসনে সেই বরাদ্দ পৌঁছেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আখতার হোসেনের ভাষ্য, দুর্যোগ কখনো দলীয় পরিচয় দেখে আসে না। দুর্যোগে সরকারি ও বিরোধী—সব এলাকার মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই জনগণের করের অর্থ থেকে দেওয়া ত্রাণ বরাদ্দে বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, গত ৩০ এপ্রিল প্রতি আসনে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন করে চাল ও গম বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কোনো আসন সেই তালিকায় ছিল না। ফলে এসব এলাকার সাধারণ মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, কবে নাগাদ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও সমতাভিত্তিক বরাদ্দ পাবেন।

বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্ত্রীর কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান। তিনি বলেন, অভিযোগটি সত্য হলে তা অবশ্যই অনুচিত হবে এবং সংসদের সদস্যরা এ বিষয়ে পরিষ্কার বক্তব্য শুনতে চান।

জবাবে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি সবসময়ই অব্যাহত রয়েছে। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য জেলা প্রশাসকদের কাছে নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্যের বরাদ্দ রাখা হয়।

টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি জানান, যেসব সংসদ সদস্য চাহিদাপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের জন্য বরাদ্দ অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সদস্যরা তাদের বরাদ্দ পেয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, যারা আবেদন করেছেন তাদের কাউকেই বঞ্চিত করা হবে না এবং সবাই নির্ধারিত বরাদ্দ পাবেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970