দুবাইয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত সোমবার (২৭ জুলাই) দেশটির একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন। মুক্তির পর দেশের একটি বেসরকারি গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করে বেনজীর আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।
জানা গেছে, জামিনের শর্ত হিসেবে আদালত তার পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে এ বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর আহমেদ। দুবাই পুলিশের সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন একাধিক মামলা করেছে। এসব অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তিনি ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের কয়েক মাস আগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এরপর তিনি দেশত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।