সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করে গুম আইনের খসড়া অনুমোদন

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

গুম প্রতিরোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন এ আইনে গুমের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের কারণে মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে বা পাঁচ বছর পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো সন্ধান না মিললে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে এ খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সরকার জানিয়েছে, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই নতুন এ আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

আইন অনুযায়ী, সাধারণ গুমের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ পাওয়া গেলে কিংবা পাঁচ বছর পরও ভুক্তভোগীকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইনটিতে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার এবং ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের সুযোগও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অধিকার সুরক্ষায় আইনটিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের জন্য পৃথক তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুযোগ রাখা হলেও তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেবে।

এছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য আদালতের অনুমতি নিয়ে তার সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পরও কোনো সন্ধান না মিললে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের সুবিধার্থে ‘গুম সনদ’ প্রদান করা হবে।

নতুন আইনে সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর পরিচয় ও নিরাপত্তা সুরক্ষার বিধানও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুমসংক্রান্ত বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970