শরিক ৬ দলের আসনে নেই দাঁড়িপাল্লা, চরমোনাইকে ছেড়ে দেওয়া আসনেও জামায়াতের প্রার্থী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হলেও জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের (চরমোনাই পীরের দল) মধ্যে জোট চূড়ান্ত হয়নি। বরং যেসব আসন একে অপরকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল, সেসব আসনেও উভয় দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তালিকা ও দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী মোট ২৭৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দিয়েছে ২৬৮ আসনে। এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, এলডিপি ও বিডিপির জন্য জামায়াত ২৪টি আসনে প্রার্থী দেয়নি। তবে ইসলামী আন্দোলনের জন্য কোনো আসন ফাঁকা রাখা হয়নি।
জানা গেছে, জামায়াত যে আসনগুলো ইসলামী আন্দোলনকে ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেখানেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। একইভাবে ইসলামী আন্দোলনও যেসব আসন জামায়াতকে ছাড় দেওয়ার কথা বলেছিল, সেখানেও হাতপাখার প্রার্থী দিয়েছে। ফলে আসন বণ্টন নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
নতুন দল এনসিপিকে ঘিরেও জোটে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জামায়াত এনসিপির জন্য প্রায় ৩০টি আসন ছাড়তে সম্মত হলেও এতে ক্ষুব্ধ ইসলামী আন্দোলন। দলটির দাবি, জামায়াতকে অন্তত ৭৫ আসনে নির্বাচন করার সুযোগ দিতে হবে। এনসিপির শীর্ষ নেতাদের জন্য যেসব আসনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি, সেসব আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন।
জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধেও ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের আসনেও জামায়াত প্রার্থী রেখেছে। ফলে ইসলামী ভোট এক প্রতীকে আনার উদ্যোগ কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
যদিও প্রকাশ্যে উভয় পক্ষই বলছে, আলোচনা চলছে এবং প্রার্থী প্রত্যাহারের আগে সমঝোতা হবে। তবে ভেতরে ভেতরে জোট ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেক নেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
জামায়াত নেতারা দাবি করছেন, ২৪৮ আসনে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। তবে কোন আসনে কোন দল চূড়ান্ত প্রার্থী দেবে— সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই সমঝোতার হিসাব মানতে নারাজ।
সব মিলিয়ে ইসলামপন্থি দলগুলোর জোট ও আসন বণ্টন নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি, যা নির্বাচনী মাঠে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।