আল্লাহ যদি আমাদের দেশের দায়িত্ব দেন, কেউ আর চাঁদাবাজির সাহস করবে না: শফিকুর রহমান
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহ যদি আমাদের হাতে এ দেশের দায়িত্ব দেন, তাহলে এক ইঞ্চি জমির ওপরও কেউ চাঁদাবাজির হাত বাড়ানোর সাহস পাবে না। কোনো অফিস-আদালতে ঘুষ নেওয়া ও ঘুষ খাওয়ার দুঃসাহস আর কেউ দেখাতে পারবে না।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে জুলুমের শিকার হয়েছে। আলেম-ওলামা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, ছাত্র-শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, শ্রমিক, কৃষক, তাঁতি ও জেলেসহ কোনো শ্রেণির মানুষই জুলুম থেকে রেহাই পায়নি।
তিনি বলেন, আমরা শাহজালাল (রহ.)-এর উত্তরসূরি। তিনি অন্যায় ও জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, মজলুমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই আদর্শ থেকেই জামায়াত অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে।
জামায়াত আমির দাবি করেন, সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত দল হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলার অপরাধে ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, এক হাজার সহযোদ্ধাকে বিনা বিচারে হত্যা এবং পাঁচ হাজার কর্মীকে পঙ্গু করা হয়েছে। এছাড়া ৫০ লাখ মানুষকে মামলার মাধ্যমে বারবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট আল্লাহ জাতিকে স্বস্তি দিলে আমরা কোনো বিজয় মিছিল করিনি, সেজদায় পড়ে শুকরিয়া আদায় করেছি। প্রতিশোধের রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না।
তিনি আরও বলেন, ৫৪ বছরে দেশের বিপুল অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার হয়েছে। এই টাকা জনগণের হক। যারা এসব টাকা ফেরত দেবে না, আমরা যদি দেশের সেবক হওয়ার সুযোগ পাই, তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না।
সিলেটের সমস্যা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সিলেট গ্যাস, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, নদীভাঙন ও ড্রেনেজ সংকটে ভুগছে। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরী তলিয়ে যায়। মাদক, সন্ত্রাস ও অস্ত্র সিলেটকে অস্থির করে তুলেছে। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গ করা হবে, প্রবাসীদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা হবে এবং নদীবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
নিজেকে সিলেটের সন্তান উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি এখানে বড় হয়েছি, পড়াশোনা ও কর্মজীবন কাটিয়েছি। আমির হিসেবে নয়, আপনাদের আপনজন হয়ে দাঁড়িয়েছি। আমরা শাসক হতে চাই না, আপনাদের পাহারাদার হতে চাই।
তিনি আরও বলেন, চা শ্রমিকদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে, জলাশয় দখল বন্ধ করা হবে এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদী কাগজে নয়, বাস্তবে প্রবাহমান করা হবে।
জনসভা শেষে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন তিনি। মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।