৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় লিবিয়ায় বাংলাদেশিকে হত্যা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ পিএম
ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে এক বাংলাদেশি যুবককে জিম্মি করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। মুক্তিপণ হিসেবে পরিবারের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা আদায়ের পরও আরও ২৭ লাখ টাকা সময়মতো না পাওয়ায় মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার যুবক সোহাগ মুন্সীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।
বুধবার (২৯ জুলাই) সোহাগের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের মাতম নেমে আসে।
স্বজনরা জানান, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সীর ছেলে সোহাগ মুন্সী দেশে রংমিস্ত্রীর কাজ করতেন। উন্নত জীবনের আশায় ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করলে স্থানীয় দালাল ময়না আক্তার ও জুলহাস সরদারের মাধ্যমে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিদেশযাত্রা করেন। এ জন্য দালালদের কাছে প্রথমে ২২ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, সৌদি আরব হয়ে সোহাগকে লিবিয়ার ত্রিপলিতে নিয়ে জিম্মি করা হয়। সেখানে অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে কয়েক দফায় পরিবারের কাছ থেকে আরও ৩৮ লাখ টাকা আদায় করে মানবপাচারকারী চক্র।
পরে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে আরও ২ লাখ টাকা নেওয়া হলেও তাকে ফেরত পাঠানো হয়নি। বরং গত ২৩ জুলাই অতিরিক্ত ২৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৪ জুলাই সকাল ৮টার মধ্যে ওই টাকা দিতে না পারায় সোহাগকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ গুম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।
পরিবারের দাবি, সোহাগের মতো এখনও অন্তত ১১ জন বাংলাদেশি যুবক লিবিয়ায় একই মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি রয়েছেন। তারা জড়িত দালাল ও মানবপাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত সোহাগের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন জানান, নিহত সোহাগের মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি মামলা করেছেন। এরই মধ্যে প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে মূল হোতাদের বেশিরভাগই দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দেশে থাকা অভিযুক্তরাও নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করায় গ্রেপ্তারে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।