গাইবান্ধায় উঠোনের মাটি খুঁড়তেই বের হলো 'মানব হাত-পা' সদৃশ মেটে আলু
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারছড়া গ্রামে এক কৃষকের বাড়ির উঠোনে মিলেছে প্রায় ২০ কেজি ওজনের ব্যতিক্রমধর্মী একটি মেটে আলু, যার গঠন দেখে বিস্ময়ে হতবাক স্থানীয়রা। আলুটির একাংশ মানুষের হাতের তালু ও পাঁচ আঙুলের মতো, অপর অংশটি অনেকটা পায়ের গড়নের সঙ্গে মিল থাকায় এটি এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
রোববার (১ মার্চ) বিকেলে ঘটনাটি ঘটে কৃষক সাদ্দাম মিয়ার বাড়িতে। বাড়ির উঠোনে মাটি কাটার সময় হঠাৎ তাঁর কোদাল শক্ত কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খায়। প্রথমে ভাঙা মাটির দলা মনে হলেও পরে দুই হাতে টেনে তুলতেই বেরিয়ে আসে বিশাল আকৃতির এই মেটে আলু। কাছে গিয়ে লক্ষ্য করতেই দেখা যায়, এতে আঙুলের মতো পাঁচটি উঁচু অংশ এবং গোড়ালির মতো গোলাকার গঠন রয়েছে। এমন দৃশ্য দেখে নিজেই বিস্মিত হয়ে পড়েন সাদ্দাম।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের মানুষজন দলে দলে ভিড় জমান সাদ্দামের বাড়িতে। কেউ ছুঁয়ে দেখছেন, কেউ তুলনা করছেন মানুষের হাত-পায়ের সঙ্গে। শিশু-কিশোরদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা আলুটি হাতে নিয়ে আঙুল গুনছে আর বিস্ময় প্রকাশ করছে। এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, এত বড় আলু আগে দেখেছেন, কিন্তু এমন আকৃতির আলু কখনও দেখেননি। তাঁর ভাষায়, মনে হচ্ছে যেন মাটির নিচ থেকে কোনো শিশুর হাত বেরিয়ে এসেছে। আরেকজন বলেন, প্রকৃতি মাঝে মাঝে এমন বিস্ময় উপহার দেয়, যা কল্পনারও বাইরে।
ঘটনার পর সাদ্দামের ছোট ভাই আলুটির দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। মুহূর্তেই তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ঘটনাটি দেখতে ও খোঁজ নিতে শুরু করেন।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম কবীর জানান, মাটির নিচে বৃদ্ধির সময় আলুর কোষ বিভাজন ও গঠনে পরিবর্তন এলে এমন অস্বাভাবিক আকৃতি তৈরি হতে পারে। মাটির গঠন, আর্দ্রতা কিংবা চাপে বৃদ্ধির দিক পরিবর্তিত হলে আলু হাত-পা বা মানুষের অবয়বের মতো আকার ধারণ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আলুর নির্দিষ্ট কোনো গঠন থাকে না; মাটির গুণাগুণ ও দীর্ঘ সময় ধরে বৃদ্ধির ফলেও এমনটি ঘটতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে এটি স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময়ের বিষয়।
কৃষক সাদ্দাম মিয়া বলেন, এমন আলু পেয়ে তিনি ও তাঁর পরিবার আনন্দিত এবং বিস্মিত। কখনও ভাবেননি উঠোনের মাটির নিচে এমন কিছু লুকিয়ে থাকতে পারে। প্রথমে আকৃতি দেখে কিছুটা ভয় পেলেও পরে সবাই দেখে নিশ্চিত হন, এটি প্রকৃতিরই এক ব্যতিক্রমী সৃষ্টি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকে বিষয়টি জানতে চাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।