টাঙ্গাইলে মা ও নবজাতকের গলিত মরদেহ উদ্ধার, ভাইরাল সেই ভিডিও নিয়ে যা জানালো পুলিশ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি মা ও নবজাতকের মরদেহের পরিচয় ছয় দিনেও শনাক্ত করা যায়নি। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।
গত সোমবার রাত ৮টার দিকে মির্জাপুর থানার পুলিশ উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামের লৌহজং নদীর পাড় থেকে মাটি খুঁড়ে ওই নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় পরে তাদের বেওয়ারিশ হিসেবে মির্জাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঘটনাটি ২০ এপ্রিলের হলেও সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। এসব পোস্টে দাবি করা হয়, এক গর্ভবতী নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং তার গর্ভের সন্তানসহ মরদেহ বস্তাবন্দি করে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। কোথাও আবার বলা হয়, গর্ভপাতের পর নবজাতক জন্ম নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মা ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে এসব তথ্যকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর, বীভৎস ও মনগড়া অপপ্রচার বলে জানিয়েছে মির্জাপুর থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে ভুল ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা তাদের নজরে এসেছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিচয় শনাক্তে দেশের সব থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওই এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক জাবেদ পারভেজ জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় দেখা যায়, নারীটি প্রায় সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন এবং মৃত্যুর সময় নবজাতকের জন্ম হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এখনো ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এছাড়া ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ধর্ষণের অভিযোগ সম্পর্কেও এখনই কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।