আলি লারিজানি ও অন্যান্য 'শহীদদের' মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবোই: ইরানের সেনাপ্রধান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিহত হওয়ার ঘটনায় কঠোর প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি। তিনি বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের জবাব হবে নির্ণায়ক এবং শত্রুর জন্য অনুশোচনামূলক।
এক বিবৃতিতে আমির হাতামি লারিজানি হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইরানের পাল্টা জবাব হবে অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতকে নতুন ও আরও ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
সেনাপ্রধানের এই ঘোষণার পরপরই ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, তারা ইতোমধ্যে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
বাহিনীটির দাবি, ‘শহীদ ডক্টর আলী লারিজানি ও তার সঙ্গীদের’ রক্তের প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এবং প্রতিশোধমূলক অভিযানে এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইসরায়েলের ভেতরে এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ দেশটির সামরিক শক্তি ব্যবহারের স্পষ্ট বার্তা বহন করছে।
আলী লারিজানি ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার মৃত্যু তেহরানের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখা যায়, যেখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধান আমির হাতামির বক্তব্য সেই জনমতেরই প্রতিফলন। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং এই পাল্টা হামলা কেবল শুরু।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলও পাল্টা পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক মহল উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লারিজানি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নিতে পারে।