কর্মঘণ্টায় ফেসবুক ব্যবহারের প্রমাণ পেলে সেদিনই চাকরিতে শেষ দিন: প্রধান বিচারপতি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
কর্মঘণ্টার মধ্যে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আদালতের কর্মঘণ্টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো বিচারক কর্মঘণ্টার মধ্যে এসব মাধ্যম ব্যবহার করেন এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেদিনই তার বিচারিক জীবনের শেষ দিন হবে।
মঙ্গলবার দেশের সব জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে দেওয়া এক অভিভাষণে এই হুঁশিয়ারি দেন প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বিচারিক শৃঙ্খলা, সততা ও আদালতের পরিবেশ রক্ষায় নানা দিকনির্দেশনা দেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে চড়ামূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, মামলার শুনানি শেষে তিন থেকে সাত দিনের মধ্যেই রায় বা আদেশ প্রদান করতে হবে। রায় প্রদানে অযথা বিলম্ব হলে বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বাড়বে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া অধস্তন আদালত ও কোর্ট প্রাঙ্গণের পরিবেশ পরিষ্কার ও সুশৃঙ্খল রাখার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। আইনজীবী ও মামলার পক্ষ ছাড়া কেউ যেন এজলাস কক্ষে প্রবেশ না করে এবং কোর্ট প্রাঙ্গণে হকার ও ভাসমান বিক্রেতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণের পরপরই অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে এই অভিভাষণের আয়োজন করা হয়।