কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধা পেলেন আনসার-ভিডিপির ৮ হাজার ৮৪৩ সদস্য
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
সরকারের ঘোষিত কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধার আওতায় দেশের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৮ হাজার ৮৪৩ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এতে সরাসরি কৃষিকাজে যুক্ত এসব সদস্যের ঋণের চাপ কমে তৃণমূল পর্যায়ে স্বস্তি ফিরেছে।
রাজধানীর রাজারবাগে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সাক্ষাৎকারে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গ্রাম পর্যায়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে গ্রাম সরকার গঠনের পাশাপাশি গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করা হয়।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান, সারা দেশে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৬১ লাখ সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত, আর প্রায় ৯৮ শতাংশ সদস্য সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত।
এই কারণে কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধায় ৮ হাজার ৮৪৩ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার জন্য সরকারের প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
তিনি বলেন, এই বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য সরকারি চাকরিজীবী নন। কেবল কিছু সদস্য- যেমন বিসিএস আনসার ক্যাডার, ব্যাটালিয়ন আনসার ও সাধারণ আনসার—সরকারি চাকরিতে রয়েছেন।
উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কিছু সদস্য বেতন-ভাতা পেলেও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা মূলত স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন। নির্বাচন, ঈদ বা পূজার সময় তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন এবং ওই সময় ভাতা পান। বছরের বাকি সময়ে তাদের নির্দিষ্ট কোনো আয় থাকে না।
জীবিকা নির্বাহের জন্য তারা হাঁস-মুরগি পালন, মাছ চাষ, বৃক্ষরোপণসহ নানা কৃষিভিত্তিক কাজে যুক্ত থাকেন বলে জানান তিনি।
মীর মোফাজ্জল হোসেন আরও বলেন, আনসার-ভিডিপির সদস্যদের কল্যাণে ১৯৯৫ সালে আনসার-ভিডিপি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ দেওয়া হয়, যার বেশির ভাগই জামানতবিহীন। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় লাখ সদস্য ঋণ সহায়তা পেয়েছেন।
ঋণ এক থেকে তিন বছরের মধ্যে কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য এবং অধিকাংশ সদস্য নিয়মিতভাবে তা পরিশোধ করছেন বলে তিনি জানান।
বর্তমানে সারা দেশে ২৬৩টি শাখার মাধ্যমে ব্যাংকের কার্যক্রম চলছে। তবে প্রায় ৮০০টি পদ শূন্য রয়েছে, যেগুলোতে শিগগিরই নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ব্যাংকের কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।