সংস্কার বকেয়া রেখেই সরকার হালখাতা খুলেছে: নাহিদ ইসলাম
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩১ পিএম
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, নির্বাচন হয়েছে, সবকিছুই হয়েছে; সবাই সবকিছু পেয়েছে, সরকার গঠিত হয়েছে, বিরোধী দল হয়েছে কিন্তু আমরা জনগণ সেই সংস্কারটা পাইনি। ফলে সংস্কার বকেয়া রেখেই সরকার হালখাতা খুলেছে এবং নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে; জনগণের কিন্তু বাকি রয়ে গিয়েছে রক্তের দেনা, রক্তের শোধ না হওয়া ঋণ।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের নেভি গলিতে দলের পয়লা বৈশাখের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির আত্মপরিচয় ও শেকড় অনুসন্ধানের দিন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন দেশের স্বপ্নে তরুণরা জীবন দিয়েছে। সেই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানান।
তিনি আরও বলেন, নববর্ষে যেমন পুরোনো হিসাব-নিকাশ মিটিয়ে হালখাতা খোলা হয়, তেমনি জাতীয় জীবনের বকেয়া হিসাবও পরিশোধ করতে হবে। তার মতে, সেই বকেয়া হচ্ছে ‘জুলাই সনদ’, যা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, জনগণের প্রত্যাশিত সংস্কার বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু জনগণের রক্তের দেনা এখনও রয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জনগণের আত্মত্যাগ ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন দ্রুত করতে হবে। যারা গণভোট ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করছে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণের রায় কার্যকর করা উচিত বলেও তিনি দাবি করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, মানবাধিকার ও গুম কমিশনের পদত্যাগ প্রমাণ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংকট চলছে। অতীতের মতো সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে, যা থেকে বেরিয়ে এসে উৎসবগুলোকে নাগরিক উৎসবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, বাংলাদেশ শুধু এই ভূখণ্ডের নয়, বরং সমগ্র বাঙালির সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে এবং বহু ভাষা ও সংস্কৃতির ধারক হিসেবে এগিয়ে যাবে।