রাকসু কার্যালয়ে হামলার জেরে রাবিতে উত্তেজনা, সংঘর্ষে জিএসসহ আহত ২
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসু কার্যালয়ে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার এবং সহ-বিজ্ঞান সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হয়েছেন। পরে অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে না দিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এক নারী শিক্ষার্থীকে ঘিরে সৃষ্ট একটি অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা করতে প্রক্টর দপ্তরে যান নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী এবং বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আনাস। সেখানে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার ও তার সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আনাসকে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।
এর আগে রোববার (২৬ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের এক শিক্ষার্থী ছাত্রদল কর্মী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের বিষয়ে সোমবার মহসিন আলমকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রক্টর দপ্তরে ডাকা হলে আনাসও সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় আবারও প্রক্টরের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আনাসকে আটক করতে পুলিশ প্রক্টর দপ্তরে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডিসিপ্লিনারি কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি বলে জানা গেছে।
পরে আনাস প্রক্টর দপ্তর থেকে বের হয়ে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রাকসু কার্যালয়ে অবস্থানরত নেতাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন রাকসু নেতারা। এতে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার এবং সহ-বিজ্ঞান সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন।
হামলার পর উভয়পক্ষ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে আনাস ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকে তাদের মারধরের অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান ও জনসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে আহত এক সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও পথে তার ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ‘নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাকসু ও হল সংসদের নেতারা। একই সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে রাকসু, হল সংসদ ও শিবিরের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), ছাত্র উপদেষ্টা, প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তকে আটকের পর পুলিশ ছেড়ে দেওয়ায় তিনি পরে রাকসু কার্যালয়ে এসে হামলা চালান। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগ-সংক্রান্ত বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। হামলার সময় তাদের সংখ্যা ছিল তিনজন, আর হামলাকারীরা ছিলেন সাতজন বলেও উল্লেখ করেন।
বৈঠক শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে দ্রুত একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তও পরিচালিত হবে।