চীনের মতো শক্তিশালী হয়ে উঠতে ভারতকে অতিরিক্ত সুবিধা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও অতীতে চীনের ক্ষেত্রে দেওয়া অর্থনৈতিক সুবিধা নয়াদিল্লিকে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের মতে, চীনের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার তারা আরও সতর্ক নীতি অনুসরণ করছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি-এ অনুষ্ঠিত রাইসিনা ডায়ালগ-এর একটি অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রায় দুই দশক আগে চীনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যে নীতিগত ভুল করেছিল, ভারতের ক্ষেত্রে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা হবে না।
ল্যান্ডাউ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে যৌথভাবে কাজ করতে চায়। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, চীনের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থানের অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনকে এখন অনেক বেশি সতর্ক করে তুলেছে। তার ভাষায়, “ভারতকে বুঝতে হবে-২০ বছর আগে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যে ভুলগুলো করেছিল, ভারতের ক্ষেত্রে তা করা হবে না।” বিশ্লেষকদের মতে, চীনের উত্থান এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রস্তাবও দেন তিনি। ল্যান্ডাউ জানান, ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে ওয়াশিংটন নয়াদিল্লির সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
এদিকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারতকে সাময়িক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জানা গেছে, এই সুবিধা আগামী ৩০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। কয়েক দফা আলোচনার পর গত মাসে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে ওয়াশিংটন। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি এবং বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ল্যান্ডাউ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে একটি শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়, যা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ককে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে ভারতও কৌশলী অবস্থান বজায় রেখে একাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বিস্তৃত করছে।
আমেরিকার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নয়াদিল্লি ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখলেও নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করছে ভারত।
সূত্র: TRT World।