স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে কি বৈধ? হাইকোর্টের রায় নিয়ে বিভ্রান্তি, আসল আইন কী বলে
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১০:১০ পিএম
দেশে প্রচলিত মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালে দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে তা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হলেও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ে বাতিল হয় না, তবে আইনগত জটিলতা তৈরি হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যে, বাংলাদেশে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে—এমন একটি রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
তবে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দাবি সঠিক নয়। তাদের মতে, আদালতে বিষয়টি উঠলেও আগের নিয়মেই বহুবিবাহের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বহাল রয়েছে। অর্থাৎ স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করার সুযোগ তৈরি হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিতি সানজানা বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি নেওয়ার নিয়মে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া কোনো বিয়ে নিবন্ধন করা যাবে না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ বলেন, স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে—এমন প্রচার সম্পূর্ণ ভুল। আদালতের রায়ে বরং বিদ্যমান আইন ও অনুমতি প্রক্রিয়াকেই যৌক্তিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৬১ সালের আইন অনুযায়ী, কোনো পুরুষ একাধিক বিয়ে করতে চাইলে নির্ধারিত সালিশি পরিষদের কাছে আবেদন করতে হবে। সেখানে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ, প্রয়োজনীয়তা এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি আছে কি না—তা উল্লেখ করতে হয়।
অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে আইন অনুযায়ী এক বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি দেনমোহর পরিশোধসহ অন্যান্য আইনগত বাধ্যবাধকতাও থাকে।
এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিটের পর রুল জারি হয় এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে বলা হয়, ইসলামে বহুবিবাহ অনুমোদিত হলেও তা শর্তসাপেক্ষ—ন্যায়বিচার, আর্থিক সক্ষমতা এবং দায়িত্ব পালনের যোগ্যতার ওপর নির্ভরশীল।
আদালত আরও উল্লেখ করে, বাংলাদেশে বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণে থাকা আইন বৈষম্যমূলক নয় এবং এটি ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপও করে না, বরং একটি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করার সুযোগ তৈরি হয়েছে—এমন প্রচার আইনগতভাবে সঠিক নয়, বরং বিদ্যমান আইনই এখনো কার্যকর রয়েছে।