মিসওয়াকের সুন্নত পদ্ধতি ও ২৪ উপকারিতা
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
ইসলামে দাঁত ও মুখের পরিচ্ছন্নতার গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত হলো মিসওয়াক। গাছের ডাল দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করার এই আমলকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে প্রত্যেক নামাজের সময় তাদের জন্য মিসওয়াক করা বাধ্যতামূলক করে দিতাম।” (সহিহ বুখারি: ৮৮৭)
মিসওয়াক কেমন হওয়া উচিত-
ইসলামি শিক্ষায় তিক্ত, কাঁচা ও নরম গাছের ডালের মিসওয়াক ব্যবহারকে উত্তম বলা হয়েছে। বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.) জয়তুন ও খেজুরগাছের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করতেন। এছাড়া পিলু গাছের মিসওয়াকও উপকারী বলে উল্লেখ রয়েছে। মিসওয়াকের আকার নিজের হাতের আঙুলের মতো মোটা এবং প্রায় এক বিঘত লম্বা হলে ব্যবহার করতে সুবিধা হয়।
মিসওয়াক করার সুন্নত পদ্ধতি-
মিসওয়াক করার সময় মুখের ডান পাশ থেকে শুরু করা সুন্নত। দাঁত ওপর থেকে নিচের দিকে পরিষ্কার করতে হবে, আড়াআড়িভাবে নয়। দাঁতের মাড়ির ভেতর-বাইরের অংশ এবং জিহ্বার গোড়া পর্যন্ত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মিসওয়াক ধরার ক্ষেত্রে ডান হাত ব্যবহার করা উত্তম। এ সময় কনিষ্ঠ আঙুল নিচে, তর্জনী ও মধ্যমা ওপরে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি নিচের অংশে থাকবে।
মিসওয়াকের উপকারিতা-
ইসলামি বর্ণনায় মিসওয়াকের নানাবিধ উপকারিতার কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে মুখ ও দাঁত পরিষ্কার থাকে, মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়, মাড়ি শক্ত হয়, দাঁত জীবাণুমুক্ত থাকে এবং শারীরিক সতেজতা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, মন প্রফুল্ল থাকা এবং ইবাদতে আগ্রহ বাড়ার মতো উপকারিতার কথাও বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে।
এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মিসওয়াককে সুন্নত আমল হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন হাদিস ও ইসলামি বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, মিসওয়াককারীর প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ, সুন্নত পালনের সওয়াব, ইবাদতে অধিক প্রতিদান এবং মৃত্যুকালে কলেমা নসিব হওয়ার মতো ফজিলতের কথাও বর্ণিত হয়েছে।
কখন মিসওয়াক করা উত্তম-
ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী কয়েকটি সময়ে মিসওয়াক করা বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- নামাজের আগে, অজুর সময়, কোরআন তিলাওয়াতের আগে, ঘুম থেকে জাগার পর, ঘুমানোর আগে, মুখে দুর্গন্ধ হলে, দীর্ঘ সময় কথা বলার পর, খাবার গ্রহণের পর এবং দুর্গন্ধযুক্ত খাবার খাওয়ার পর।