জিয়া উদ্যানে স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত ‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৫২ পিএম
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর সংসদভবন এলাকার জিয়া উদ্যানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় কিছুটা দূরত্বে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মীলা রহমান সিঁথিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা দাফন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে নেওয়ার পর সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা কফিন কাঁধে তুলে কবরে নিয়ে যান। পরে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
তারও আগে বুধবার বেলা ৩টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ-জামান, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং লাখো সাধারণ মানুষ অংশ নেন। জানাজার আগে তারেক রহমান মায়ের জন্য দোয়া চান এবং তার পক্ষ থেকে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
উল্লেখ্য, সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে টানা ৪৩ বছর বিএনপির নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীতে তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে দৃঢ় ভূমিকার কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।