হলফনামায় সই-ছবি-তারিখ না থাকলেও বহাল বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করা হয়েছে। একই আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল এই আপিল করেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে আপিল দাখিলের পাশাপাশি নিজের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার দাবিতে পৃথক আবেদনও জমা দেন ইকবাল। তিনি অভিযোগ করেন, আপিলের প্রস্তুতির জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানালেও নির্ধারিত সময়ে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকা সরবরাহ করা হয়নি।
আপিল আবেদনে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল দাবি করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা যথাযথ যাচাই ছাড়াই সৈয়দ এহসানুল হুদার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন। তার অভিযোগ, হলফনামাটি সঠিকভাবে পরীক্ষা করা হলে সেটি বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।
আপিল নথিতে উল্লেখ করা হয়, সৈয়দ এহসানুল হুদার হলফনামায় প্রার্থীর ছবি, সই ও তারিখ নেই। পাশাপাশি ৩ নম্বর কলামের ‘খ’ অনুচ্ছেদে ভুল তথ্য, ‘গ’ অনুচ্ছেদে অসম্পূর্ণ তথ্য এবং ৭ নম্বর কলামের ‘ক’ অনুচ্ছেদে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। ৮ নম্বর কলাম পূরণ করা হয়নি এবং ১০ নম্বর কলামের ‘ক’ অনুচ্ছেদও ত্রুটিপূর্ণ। এছাড়া হলফনামাটি প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিক দ্বারা যথাযথভাবে সত্যায়িত নয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, তার মনোনয়নপত্রে সামান্য তথ্যগত ভুল থাকায় সেটি বাতিল করা হয়েছে। অথচ একাধিক গুরুতর ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও সৈয়দ এহসানুল হুদার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। হলফনামায় সই, ছবি ও তারিখ না থাকলেও কীভাবে একটি মনোনয়ন বৈধ হয়—সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৃথক দুটি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিক থাকায় তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের আবেদনের পর ৭ জানুয়ারি রেকর্ড রুম থেকে তাকে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকার দুই কপি সরবরাহ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই যথাযথভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং কেউ সংক্ষুব্ধ হলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে পাওয়া নথিতে দেখা গেছে, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার হলফনামায় তার সই নেই।
উল্লেখ্য, ৩ ও ৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনে ৬১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে ৩৭ জনকে বৈধ ও ২৪ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শুরুতে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বিএনপির মনোনয়ন পেলেও পরে তাকে বাদ দিয়ে বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদাকে মনোনয়ন দেয় দলটি।