প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাস্তা বানানোর জন্য ভাড়া নেওয়া হয় ইট, ফেরত দেওয়া হয় পরে

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে একটি কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো এবং পরে তা তুলে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি। ফলে সফরের আগে দ্রুত অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়, যার ব্যয় দেখানো হয় প্রায় ১০ লাখ টাকা।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ওই সড়ক থেকে বিছানো ইট তুলে নেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এতে বর্ষাকালে সড়কটি আবার চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাদের।

এলজিইডির বগুড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, সড়কটি পাকাকরণের জন্য আগেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। মূল কাজ চলমান থাকায় এবং অস্থায়ী প্রয়োজনেই ইট বিছানো হয়েছিল। পরে ঠিকাদারকে তা তুলে নিতে বলা হয়। তার ভাষায়, “অস্থায়ীভাবে সোলিং করার জন্য ইট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।”

স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, প্রথমে ইট বিছানোর কারণে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছিল, কিন্তু পরে তা তুলে নেওয়ায় আবার দুর্ভোগ শুরু হয়েছে।

আরও কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিত নয় এবং এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরকে কেন্দ্র করে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়েছিল এবং পরে নির্দেশ অনুযায়ী তা সরানো হয়েছে। তবে ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব নিয়ে তারা স্পষ্ট মন্তব্য করতে পারেননি।

গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, মূল সড়ক পাকাকরণের কাজ ইতিমধ্যে অনুমোদিত এবং নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে, সফরকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতেই অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়ার সম্পাদক কে জি এম ফারুক বলেন, দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবার নতুন করে অস্থায়ী ব্যয়ে সরকারি অর্থ ব্যবহার করা প্রশ্নবিদ্ধ। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও সমালোচনা বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের স্বচ্ছতা, অর্থ ব্যয় এবং অস্থায়ী কাজের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত স্থায়ীভাবে সড়কটি পাকাকরণ করা হোক, যাতে বারবার এমন অস্থায়ী ব্যবস্থার প্রয়োজন না পড়ে।

সুত্র: প্রথম আলো

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970