বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে পুরনো ৫ বিমানঘাঁটি পুনরায় সক্রিয় করছে ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০২ পিএম
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর সংলগ্ন এলাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পাঁচটি পুরনো বিমানঘাঁটি পুনরায় সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগের খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার আম্বারি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবরি জেলায় অবস্থিত বিমানঘাঁটিগুলো সচল করা হবে। এসব ঘাঁটি ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত।
ভারত সরকারের বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণেই পূর্ব ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে পুরনো সামরিক অবকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিয়ানমার ও ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলে জাপানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় একাধিক বিমানঘাঁটি স্থাপন করেছিল। সেই সময় বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলাতেও একটি বিমানঘাঁটি নির্মাণ করা হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া বক্তব্যে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি তারা জানতে পেরেছেন বাংলাদেশ সরকার লালমনিরহাটের পুরনো বিমানঘাঁটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তথ্য পাওয়ার পরই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্তবর্তী পূর্ব ও উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিমানঘাঁটিগুলো সক্রিয় করার পদক্ষেপ নেয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে সীমান্ত এলাকায় ভারতের সামরিক উপস্থিতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া, বিহারের কিশানগঞ্জ এবং আসামের ধুবরি জেলার লাচিত বরফুকান এলাকায় নতুন সেনা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
কৌশলগতভাবে শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেক ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই করিডোর দিয়েই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তরপূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের যোগাযোগ বজায় রয়েছে। একই সঙ্গে এই এলাকায় নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তও অবস্থিত।