যুদ্ধবিরোধী সংবাদ প্রচার করলে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত খবর ‘বিকৃতভাবে’ প্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সম্প্রচার মাধ্যমগুলোকে অবশ্যই জনস্বার্থে কাজ করতে হবে, অন্যথায় তারা লাইসেন্স হারাতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সতর্কবার্তাকে সংবাদমাধ্যমের ওপর নজিরবিহীন চাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ব্রেন্ডন কার তার পোস্টে লিখেছেন, যেসব সম্প্রচারকারী সংস্থা গুজব ছড়ায় বা খবর বিকৃত করে প্রচার করছে, লাইসেন্স নবায়নের আগে তাদের সামনে এখনও নিজেদের সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
তার এই মন্তব্যকে সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ বা সেন্সরশিপের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন মুক্তমত প্রকাশের পক্ষের আন্দোলনকারী ও রাজনীতিবিদরা। হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি যুদ্ধের ইতিবাচক খবর প্রচারের একটি পরিষ্কার নির্দেশ, অন্যথায় লাইসেন্স নবায়ন না করার প্রচ্ছন্ন হুমকি। তিনি আরও বলেন, এটি কোনো বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং যুদ্ধের খবর কীভাবে পরিবেশন করা হবে সে বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ।
মুক্ত মতপ্রকাশের পক্ষে কাজ করা সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশনের পাবলিক অ্যাডভোকেসি পরিচালক অ্যারন টের প্রশাসনের এমন অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সরকারকে যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য সেন্সর করার অনুমতি দেয় না।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পরই ব্রেন্ডন কার এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কিছু ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ সৌদি আরবে ইরানের হামলায় মার্কিন জ্বালানি বিমান ধ্বংস হওয়ার মিথ্যা খবর প্রচার করছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, পাঁচটি বিমানের মধ্যে চারটির কোনো ক্ষতি হয়নি এবং সেগুলো ইতোমধ্যে আবার ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। একটি বিমানের কিছু ক্ষতি হয়েছে, তবে সেটিও দ্রুত মেরামত করা হবে। তিনি আরও বলেন, নিম্নমানের কিছু সংবাদমাধ্যম আসলে চায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে পরাজিত হোক।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কাছেও খুব বেশি জনপ্রিয় নয়। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ ভোটার এই সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করছেন। এর মধ্যে বিপুল সংখ্যক ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটার রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই তারা জয় নিশ্চিত করেছেন, বাস্তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে যুদ্ধবিরোধী জনমত তৈরির জন্য সরাসরি সংবাদমাধ্যমকে দায়ী করেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের উচিত দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক ভূমিকা পালন করা।