ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড: জড়িতদের ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসা ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির দাবি, অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।

রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইডি জানায়, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে এই লেনদেনের চিত্র উঠে আসে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়।

সিআইডি জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরীফ ওসমান হাদী মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ক্রাইমসিন ইউনিট মোতায়েন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার এবং বিভিন্ন আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়। এসব তদন্তের ধারাবাহিকতায় মানি লন্ডারিং আইনে পৃথক অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

গ্রেপ্তার অভিযান চলাকালে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইয়ের তথ্যও গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সিআইডির তথ্যমতে, অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের একাধিক চেকবইয়ে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থের উল্লেখ রয়েছে, যেগুলোর চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন না হলেও এসব চেকের মোট মূল্য প্রায় ২১৮ কোটি টাকা।

প্রাথমিক বিশ্লেষণে সিআইডি আরও জানায়, অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব লেনদেন মানি লন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে মানি লন্ডারিং বিষয়ে পৃথক তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। একই সঙ্গে এসব অর্থের উৎস শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহে কোনো সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়েও একাধিক তদন্ত দল কাজ করছে। মূলহোতাকে গ্রেপ্তার ও পুরো অপরাধচক্র উন্মোচনে সিআইডির অভিযান চলমান রয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তবে মামলার আলামত গোপন এবং তাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক সহযোগীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970