শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়া মুফতি রুহুল আমিন শিক্ষাবোর্ডের সভায়
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:০০ পিএম
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়ার ঘটনায় আলোচিত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সাবেক খতিব মুফতি রুহুল আমীন দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে এসেছেন। বুধবার রাজধানীর ঢাকায় আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘কওমি মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচার রোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক সভায় তিনি অংশ নেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। একই সময়ে বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি রুহুল আমীনও আত্মগোপনে চলে যান। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি।
পরে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মুফতি মো. রুহুল আমীনকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিবের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
বুধবারের সভাটি আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংস্থাটির অধীন ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধ, অনিয়ম কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষক ও লাখো শিক্ষার্থীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এ সময় কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদরাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয়। এর সদস্য হিসেবে মনোনীত হন আল্লামা সাজিদুর রহমান, মাওলানা মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা আব্দুল বছীর, মাওলানা মুফতি এনামুল হক, মাওলানা একরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা মুহসিন শরীফ এবং মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী।