জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের মামলা প্রত্যাহার ও দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। রোববার (২৫ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। খবর বাসসের।
এর আগে ১৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।
অধ্যাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকার কর্তৃক প্রত্যয়ন সাপেক্ষে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি কার্যধারা চলমান থাকলে পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাহার করবেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি বা খালাস দেবেন।
তবে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কোনো হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে। কমিশন এসব অভিযোগ তদন্ত করবে। এ ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তি যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর সদস্য হয়ে থাকেন, তবে ওই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর বর্তমান বা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়, তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেফতার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।
কমিশনের তদন্তে যদি প্রতীয়মান হয় যে অভিযোগে উল্লিখিত কার্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তবে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। আদালত ওই প্রতিবেদনকে পুলিশ প্রতিবেদনের সমতুল্য হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।
এ ছাড়া তদন্তে যদি দেখা যায় যে অভিযোগে উল্লিখিত কার্য রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সে ক্ষেত্রে কমিশন প্রয়োজনবোধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে কোনো আদালতে মামলা বা অন্য কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।