শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে ‘বাধা’ হবে না: দ্য হিন্দুকে মির্জা ফখরুল
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে ইস্যু করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক থেমে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কোনো একক ইস্যু বৃহৎ পরিসরের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়।
মঙ্গলবার ঢাকার গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল জানান, বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে এবং ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার দাবি জনমানুষের মধ্যে আছে। তবে ভারত যদি তাঁকে বাংলাদেশের হাতে তুলে না-ও দেয়, তবুও বাণিজ্যসহ বৃহত্তর সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তা বাধা হবে না।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশত্যাগকারী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে ফেরত চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জটিল বিষয়গুলোর মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন, ফারাক্কার পানির বিষয় এবং সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। এসব ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের প্রশ্নই আসে না, আলোচনা করেই সমাধান করতে হবে।”
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পাশাপাশি রাজনৈতিক সমঝোতার পক্ষে অবস্থানের কথাও জানান তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সহিংস অভ্যুত্থানের পর সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-কে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়া বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে বাণিজ্য, প্রযুক্তি শিক্ষা, সক্ষমতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে আরও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্পগুলো টিকিয়ে রাখা হবে।