ইমাম-পুরোহিতদের হাতে মাসিক সম্মানী তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের জন্য সম্মানী প্রদান কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে।
সরকার দেশের সব মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, একটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা এবং মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারের জন্য ৮ হাজার টাকা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা। মন্দিরের পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবায়েত ৩ হাজার টাকা। বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার টাকা ও উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা। গির্জার যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংশ্লিষ্টদের এক হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিনে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রধানদের দুই হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই একটি পাইলট কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মোট ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ এবং প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে মোট ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার ও ৩৯৬টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে নির্বাচিত ধর্মীয় ব্যক্তিদের কাছে এই সম্মানী পৌঁছে দেওয়া হবে।
গত ৮ মার্চ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয় এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বাজেটের প্রয়োজন হবে। ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে চার ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্মানী প্রদানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হবে।