জামায়াতকে ঘিরে গুজব ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতার চেষ্টা, ইসকনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:০৩ এএম

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ পাহাড়কে কেন্দ্র করে আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন—এমন অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর একটি পিকনিক আয়োজনকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

রাজনৈতিকভাবে সচেতন মহলের মতে, সারাদেশ যখন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ‘জুলাই বিপ্লবের নায়ক’ ওসমান হাদির ওপর হত্যাচেষ্টা এবং বিচার দাবির আন্দোলনে উত্তাল, ঠিক সেই সময় ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, ইসকন ও আওয়ামী লীগের একটি অংশ সমন্বিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে ২ নম্বর গেটসংলগ্ন একটি বাগানে জামায়াতের সাবেক আমীর তাওহীদুল হক চৌধুরীর উদ্যোগে একটি পিকনিকের আয়োজন করা হয়। এতে শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন। পিকনিকের স্থানটি মহাশ্মশ্মান থেকে প্রায় এক হাজার মিটার পূর্বে, সীতার মন্দির থেকে এক হাজার মিটার পশ্চিমে এবং চন্দ্রনাথ মন্দির থেকে প্রায় ১২০০ ফুট নিচে অবস্থিত। জামায়াতের পাশাপাশি দলটির সনাতনী শাখার নেতারাও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। এ ছাড়া প্রায় ৫০ জন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর জন্য আলাদা মেন্যুতে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়।

তবে পরদিন চট্টগ্রামের কয়েকজন আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়াতে শুরু করেন। সর্বপ্রথম বিপ্লব দে পার্থ নামে এক ব্যক্তি ‘চন্দ্রনাথ ধর্মীয় তীর্থভূমিতে জামায়াত নেতার গরু জবাই’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীরের আয়োজিত পিকনিকে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীসহ প্রায় এক হাজার মানুষ অংশ নেয় এবং চন্দ্রনাথ ধামের নিকটবর্তী এলাকায় গরু জবাই করে খাবারের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে ইসলামী সংগীত, গজল, আজান ও নামাজ আদায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়। পোস্টে আরও দাবি করা হয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।

এই পোস্ট দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইসকনের একাধিক সদস্য পোস্টটি কপি করে ছড়াতে থাকেন। বিপ্লব দে পার্থের বিরুদ্ধে ইসকনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে রাষ্ট্রদ্রোহ ও আইনজীবী আলিফ হত্যাকাণ্ডের আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের একাধিক ছবি সামাজিক মাধ্যমে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের আগেও ইসকনের বিভিন্ন প্রেস রিলিজ তিনি লিখে গণমাধ্যমে পাঠাতেন এবং বিভিন্ন ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক পোস্ট দিতেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চন্দ্রনাথ মন্দির পাহাড়ের প্রায় ১২০০ ফুট ওপরে অবস্থিত। যেখানে পিকনিকের আয়োজন করা হয়, সেটি পাহাড়ের নিচের একটি লোকালয় এবং দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত একটি পিকনিক স্পট। এর আগে সীতাকুণ্ড বাজার কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সেখানে পিকনিক করেছে। পাহাড়ের পাদদেশে অসংখ্য বসতবাড়ি রয়েছে এবং অদূরে টিনওয়ালাশাহ ফকির (রহ.)-এর একটি মাজারও অবস্থিত। ওই এলাকায় যুগ যুগ ধরে মুসলিম ও সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পিকনিকে ব্যবহৃত গরু ও খাসির মাংস বাইরে থেকে জবাই করে আনা হয়। পিকনিক স্পটটির সঙ্গে মহাশ্মশ্মান ও সীতার মন্দিরের দূরত্ব প্রায় এক হাজার মিটার। ১ নম্বর ব্রিজ পার হয়ে পাহাড়ি ছড়ার ওপারে একটি পেয়ারা ও গাব বাগানের ভেতরে এই আয়োজন করা হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় পূজা কমিটির নেতা বলরাম দাস বলেন, “পাহাড়ের পাদদেশের ফলবাগানে পিকনিকে বাইরে থেকে জবাই করা গরু ও খাসির মাংস রান্না করে খাওয়ানো হয়। এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্র।”

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমলেন্দু কনক বলেন, “একটি অসাধু চক্র সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। মাওলানা তাওহীদুল হক চৌধুরীর বাড়িতে জবাই করে খাবার রান্নার জন্য শুধু অনুষ্ঠানস্থলে নেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে জামায়াত নেতা তাওহীদুল হক চৌধুরী বলেন, “আমার বাড়ি থেকে জবাই করা গরু ও খাসির মাংস নিয়ে সেখানে রান্না করা হয়েছে। আশপাশে কোনো মন্দির বা মঠ নেই। মনোরম পরিবেশের কারণে ওই বাগানটি নির্বাচন করা হয়। চন্দ্রনাথ মন্দির পাহাড়ের অনেক ওপরে অবস্থিত।”

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, “ওসমান হাদির ঘটনার দৃষ্টি ভিন্নখাতে নিতে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সীতাকুণ্ডের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে উসকানি ছড়ানো হচ্ছে।”

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970