রাজশাহীতে থিম রিয়েল এস্টেটের অফিসে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
রাজশাহী নগরীর গোরহাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত থিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের অফিসে প্রকাশ্য সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা মোঃ রকিব আলী বোয়ালিয়া থানায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডিতে অভিযুক্ত হিসেবে আব্দুল আওয়াল ও সুমন মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে গোরহাঙ্গা এলাকার থিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেড অফিসে আব্দুল আওয়াল ও সুমন মিয়া একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা নিজেদের ‘সন্ত্রাসী’ পরিচয় দিয়ে অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, ব্যাংক চেক, হিসাব সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ নগদ প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে অফিসের লকার ভেঙে মূল্যবান সামগ্রীও হাতিয়ে নেয় তারা।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সন্ত্রাসীরা অফিস দখল করে নেওয়ার হুমকি দেয় এবং ভবিষ্যতে অফিস পরিচালনা করলে মালিকপক্ষ ও কর্মচারীদের প্রাণনাশের ভয় দেখায়। এ ঘটনার পর থেকে অফিস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মো. রকিব আলী বলেন, ঘটনার পরপরই বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলেও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বড় ধরনের সহিংসতা ঘটতে পারে।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম মিলুর শেল্টার ও নেতৃত্বে আব্দুল আওয়াল ও সুমন সরকার, যাদের গত মাসে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তারা ষষ্টিতলার জাকিরসহ আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে অফিসে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালায়।
তিনি আরও জানান, হামলার সময় অফিসে থাকা সকলের মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে রিসেট করে দেওয়া হয়, যাতে কেউ বাইরে যোগাযোগ করতে না পারে। এরপর সবাইকে অফিস থেকে বের করে দিয়ে সব চাবি নিয়ে নেওয়া হয়। ভল্ট থেকে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কম্পিউটার ব্যবহার করে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষর জাল করে থিম রিয়েল এস্টেট লিঃ এর প্যাডে দোকানদারদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে লেখা হয়, অ্যাকাউন্ট সমস্যার কারণে অফিসে এসে টাকা জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে, যা মূলত পরিকল্পিতভাবে অর্থ লুটের অপচেষ্টা বলে দাবি করেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম মিলু বিষয়টি জানতেন এবং সন্ত্রাসীদের অফিসে হামলা করার সুযোগ করে দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে অফিস বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম মিলু, আব্দুল আওয়াল ও সুমনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী অনলাইনে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। মামলা করতে হলে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জিডির ভিত্তিতে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এই সন্ত্রাসী চক্রটি বিভিন্ন অফিসে মব সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।