রাজশাহীতে আউয়াল-সুমনের নেতৃত্বে থিম রিয়েল এস্টেট অফিসে হামলা-দখল ও লুটপাটের অভিযোগ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
রাজশাহীর নগরীর গোরহাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত থিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের অফিসে সন্ত্রাসী হামলা, লুটপাট ও দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক দুই কর্মচারী আউয়াল ও সুমনের বিরুদ্ধে।
রাজশাহী বোয়ালিয়া থানায় করা লিখিত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) অভিযোগে বলা হয়েছে, আউয়াল ও সুমন সংঘবদ্ধভাবে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে অফিস ও আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন।
মালিকপক্ষ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আউয়াল ও সুমন পূর্বে থিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। গত ৫ আগস্টের পর তারা মালিকপক্ষের বিভিন্ন দোকানপাট লুটের নেতৃত্ব দেন এবং অফিসের ক্যাশ থেকে নিয়মিত টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করতেন। এ বিষয়ে অন্য কর্মচারীরা প্রতিবাদ করলে তাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হতো।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মালিকপক্ষ হিসাব চাইলে আউয়াল ও সুমন নানা তালবাহানা শুরু করেন এবং একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। থিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেড ও থিম ওমর প্লাজায় সংঘটিত প্রায় সব ধরনের অনিয়ম ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম তাদের নেতৃত্বেই সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতে থিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেড নতুন একজন সিএফও নিয়োগ দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আউয়াল-সুমন গং নতুন সিএফওকে একটি কক্ষে আটকে রেখে অস্ত্রের মুখে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য করে।
পরবর্তীতে এসব অনিয়ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড স্পষ্ট হলে কোম্পানির মালিকপক্ষ আউয়াল ও সুমনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। এর জেরে গত ৫ জানুয়ারি আউয়াল ও সুমনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী থিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের অফিসে হামলা চালায়। এ সময় অফিসের নগদ টাকা, চেক, চাবি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায় এবং অফিস দখলের ঘোষণা দেয়।
স্থানীয়দের কাছে তারা প্রকাশ্যে দাবি করছে, তাদের পেছনে রবিউল ইসলাম মিলু ও লিটু সাহেব রয়েছেন এবং কেউ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে না। তারা জোরপূর্বক থিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের অফিস পরিচালনা করবে বলেও হুমকি দিয়ে আসছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তারা অন্যান্য কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে প্রাণের ভয়ে কেউ অফিসে আসতে সাহস পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে মার্কেটের অন্যান্য দোকান মালিকরাও চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যে কোনো সময় দোকান দখল ও লুটপাটের আশঙ্কায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।