আগেই ব্যালট বাক্স ভরলে জনতার বিদ্রোহ ঠেকানো যাবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এবারও যদি আগের মতো নির্বাচন শুরুর আগেই ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হয়, তাহলে জনগণের বিদ্রোহ সামলানো যাবে না। তিনি বলেন, একটি পক্ষ বুলেটের রাজনীতির প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর আমরা ব্যালটের রাজনীতির প্রস্তুতি নিচ্ছি। বুলেটের রাজনীতিকে ব্যালটের রাজনীতির মাধ্যমেই পরাজিত করা হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খুলনায় ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সমর্থনে ফুলতলায় এ জনসভার আয়োজন করা হয়।
নির্বাচনে পুলিশকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এবারের নির্বাচন তরুণ প্রজন্ম ও শহীদদের রক্তে অর্জিত। কোনো পুলিশ সদস্য যদি অবৈধ টাকার মুখোমুখি হন, তাহলে সন্তান, বাবা-মা এবং দেশের মানুষের কথা মনে রাখতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ হলে তার ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন কোনো সহজ অর্জন নয়। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সহস্র মানুষ শহীদ হয়েছেন, অসংখ্য মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ‘আয়নাঘর’ শুধু একটি স্থাপনা নয়, পুরো বাংলাদেশই একসময় নিপীড়িত মানুষের জন্য উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ২০০৯ সালের আগে বায়তুল মুকাররমের সামনে লগি-বৈঠার রাজনীতি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে ওসমান হাদির শাহাদাত পর্যন্ত দীর্ঘ রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আজকের নির্বাচন এসেছে। এই নির্বাচন শহীদদের রক্তে লেখা।
বিগত তিনটি নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, দিনের ভোট রাতে হয়েছে, মৃত মানুষকে কবর থেকে তুলে এনে ভোট দেওয়া হয়েছে, ডামি নির্বাচন পরিচালনা করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড ওপর মহলের নির্দেশেই হয়েছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে। এবার প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলে জনগণের আস্থা ফিরে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অনেক সাংবাদিক সত্য তুলে ধরতে চাইলেও মালিকানার কারণে পারেন না। একটি গোষ্ঠী টেলিভিশন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করে মিডিয়া মাফিয়াগিরি চালাচ্ছে। তবে জনগণ জেগে উঠলে আলাদা করে কোনো মিডিয়ার প্রয়োজন হয় না, জনগণই তখন মিডিয়ায় পরিণত হয়।
ডুমুরিয়া ও ফুলতলার ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি পক্ষ কালো টাকা ও টাকার বস্তা নিয়ে মাঠে নেমেছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ভোটের আগে একদিন টাকা নিয়ে পাঁচ বছর গোলাম থাকবেন, নাকি বিনা পয়সায় ভোট দিয়ে আগামী পাঁচ বছর সেবা নেবেন? ভোট বিক্রি করলে পাঁচ বছর জনগণকে গোলামি করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ভোটকে পবিত্র আমানত উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই ভোটাধিকার অর্জনে শত সহস্র মানুষ জীবন দিয়েছেন। শহীদদের রক্তের দোহাই দিয়ে তিনি ভোট কেনাবেচা না করার আহ্বান জানান।
ফুলতলা-ডুমুরিয়া আসনের প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই প্রার্থী দেশের যেকোনো আসনে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য এবং এমপি থাকা অবস্থায় ব্যয় করা প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।