দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ায় তিন সন্তানের জননীকে তালাক দিলেন বিএনপিকর্মী
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপিকর্মীর বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে তালাক দেওয়া হলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি)। ভুক্তভোগী নারী দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
ভুক্তভোগী ওই নারী শিবগঞ্জ উপজেলার শেখটোলা গ্রামের বাসিন্দা মো. সৈবুর রহমানের স্ত্রী। আগে রিকশাচালক হলেও বর্তমানে বেকার সৈবুরের সঙ্গে তার ৩০ বছরের সংসার। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ের বয়স ২৮, ছোট মেয়ের ২৫ এবং ছেলের বয়স ১৯ বছর।
নারীর অভিযোগ, তার স্বামী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) করেন। ভোটের দিন কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় স্বামী তাকে ‘সব ঠিক রাখার’ কথা বলেন। তবে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেন। অতীতে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, যা তার স্বামী জানতেন। কিন্তু স্থানীয় লোকজনের কথায় প্রভাবিত হয়ে তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি ভুক্তভোগী নারী। তার ছেলে জানায়, তালাকের পর তারা খালার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তালাক দেওয়ার পর তার বাবা ভুল স্বীকার করে যোগাযোগ করেছেন। তবে তার মা আর সংসারে ফিরতে চান না।
অভিযুক্ত সৈবুর রহমান বলেন, “আমার ভুল হয়ে গেছে। রাগের মাথায় তালাক দিয়েছি। এখন লোক লাগিয়েছি তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা–এর শিবগঞ্জ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক এসএম মহিউদ্দিন বলেন, ভোট দেওয়া একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। এ কারণে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর শিবগঞ্জ পৌর নায়েবে আমির আব্দুল আজিজ মাহমুদ জানিয়েছেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার কারণে তালাকের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে; দল তারাফুল খাতুনের পাশে থাকবে।