৪৮তম বিসিএসে যোগ দিয়েই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শ্যালিকার ধর্ষণ মামলা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
যশোরের মণিরামপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আপন শ্যালিকাকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত ডা. রাফসান জানি মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত।
মঙ্গলবার ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী নিজে বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় মামলাটি করেন। জানা যায়, ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে গত মাসেই ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন রাফসান জানি। তিনি যশোর সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণী লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার বাসিন্দা এবং রংপুরের একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ২০২০ সালের শেষ দিকে অভিযুক্তের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে দেখাশোনার জন্য ওই তরুণীকে যশোর শহরে নিয়ে আসেন রাফসান।
অভিযোগে বলা হয়, বাসায় পড়ানোর অজুহাতে রাফসান তাকে নিয়মিত কুপ্রস্তাব দিতেন এবং বিভিন্নভাবে আপত্তিকর আচরণ করতেন। বিষয়টি বড় বোনকে জানালেও সংসার রক্ষার কথা ভেবে তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরবর্তীতে বাসায় একা পেয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও প্রলোভনের মাধ্যমে সম্পর্ক চালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, পরবর্তীতে তাকে যশোরের একটি হোস্টেলে রাখেন অভিযুক্ত এবং বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মণিরামপুর পৌর শহরের মোহনপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ‘স্বামী-স্ত্রী’ পরিচয়ে বসবাস করেন তারা। এ সময় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বারবার ধর্ষণের পাশাপাশি মোবাইলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন রাফসান।
গত মাসে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বর্তমানে ওই ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তরুণী। এ ঘটনায় প্রথমে হাতিবান্ধা থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং পরে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন তিনি।
অভিযুক্ত ডা. রাফসান জানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি বিষয়টিকে ‘পারিবারিক সমস্যা’ বলে ফোন কেটে দেন।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল জানান, ডা. রাফসান গত শনিবার থেকে ছুটিতে রয়েছেন এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত। মামলার বিষয়টি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানেন না।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রজিউল্লাহ খান বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।