হাদিকে গুলির ঘটনায় শুটার ফয়সালকে নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো র্যাব
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৫৯ এএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বোনের বাসার পাশ থেকে দুটি ম্যাগজিন ও ১১টি গুলি উদ্ধার করেছে র্যাব। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ফয়সালের বাবা ও মাসহ তিনজনকে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে র্যাবের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় শুটার ফয়সাল ও তার পরিবারের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর কিছু দিয়েছে র্যাব।
র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন তথ্য ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে ফয়সালের বোনের বাসা এবং পাশের ফাঁকা জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি ভরা ম্যাগজিন, ১১টি গুলি এবং একটি চাকু। এছাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি ট্যাব, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, একটি পুরনো বাটন মোবাইল, দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের ১৫টি চেকবই, ছয়টি পাসপোর্ট এবং বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবের ৩৮টি চেক।
সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাদির ওপর হামলার দিন বেলা ১১টার দিকে ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর মোটরসাইকেলে বের হন। পরে বিকেল ৪টার দিকে ফয়সাল, আলমগীর এবং ফয়সালের মা ও ভাগিনাকে দুই ভবনের মাঝের ফাঁকা জায়গা থেকে কিছু বের করতে দেখা গেছে। বিকেল ৪:২০ মিনিটে ফয়সাল ও আলমগীর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে চলে যান।
নরসিংদীতে অভিযান চালিয়ে মো. ফয়সাল (২৫) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এসময় তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই অস্ত্রগুলো হাদিকে গুলি করতে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার পর জানা যাবে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ নরসিংদী জেলার তরুয়া এলাকার মোল্লার বাড়ির সামনে তরুয়ার বিল থেকে পাওয়া গেছে।
ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) এবং মা মোছা হাসি বেগমকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব জানায়, ফয়সালের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের একটি ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়, আর অন্যটি তার মা’কে দেওয়া হয়। পরে নিরাপত্তার কারণে ফয়সাল আগারগাঁও থেকে মিরপুর হয়ে শাহজাদপুরে তার চাচাতো ভাইয়ের বাসায় যান। ফয়সালের ব্যাগ বহনের জন্য তার বাবা একটি সিএনজি ভাড়া করে দেন এবং কিছু অর্থ সরবরাহ করেন।
ঘটনাস্থল: ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে গুলি করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
হাদিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় পরিবারের সম্মতিতে পল্টন থানায় রোববার (১৪ ডিসেম্বর) অভিযোগ দায়ের করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। মামলাটি বর্তমানে ডিবিতে রয়েছে। ইতিমধ্যে ফয়সালের স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিকসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।