সংসদ ব্যর্থ হলে প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে: ড. আলী রীয়াজ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৩৪ পিএম
আগামী জাতীয় সংসদ কেবল আইন প্রণয়ন নয়, সংবিধান সংস্কারের দায়িত্বও পালন করবে—এমন প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনের পর গঠিত সংসদ প্রথম ২৭০ দিন (প্রায় ৯ মাস) ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কাজ করবে। এই সময়ের মধ্যে গণভোটে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, “যদি সংসদ এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সরকার ‘সংবিধান সংশোধনী আইনের খসড়া বিল’ আকারে প্রস্তাবগুলো গণভোটে উপস্থাপন করবে। গণভোটে বিল পাস হলে, সংসদ তা অনুমোদন না করলেও প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে।”
ড. আলী রীয়াজ আরও জানান, গণভোটের সময়সীমা নিয়ে কমিশন কোনো বাধ্যবাধকতা দেয়নি। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারির পর থেকে জাতীয় নির্বাচনের দিন পর্যন্ত যেকোনো সময় গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, গণভোট হবে একটি প্যাকেজ প্রশ্নে, যেখানে জানতে চাওয়া হবে—জনগণ “জুলাই জাতীয় সনদ” ও সংশ্লিষ্ট সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর পক্ষে নাকি বিপক্ষে।
রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা সরকারকে বলেছি, এসব বিষয় জনগণের কাছে নিতে হবে। জনগণের রায়ই চূড়ান্ত হবে—তারপর রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অবস্থান নির্ধারণ করবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, কমিশন ৪৮টি বিষয়ে জনগণের সম্মতি ও অসম্মতিকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঐকমত্য কমিশনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।