রাকসুর ভোট চাইতে গিয়ে পরিচয়, চার মাসের প্রেমের পর বিয়ে
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে দুই শিক্ষার্থী রিদুয়ানুল হক ইমন ও মুসলিমা। মাত্র চার মাসের সম্পর্কের পর গত ৭ এপ্রিল দুই পরিবারের সম্মতিতে রাজশাহীর বিনোদপুর এলাকার কাজি কার্যালয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
ইমন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ময়মনসিংহে। অন্যদিকে মুসলিমা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, তার বাড়ি বাগেরহাটে।
গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ করেন তারা।
জানা যায়, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় ইমন ও মুসলিমার প্রথম পরিচয় হয়। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে রূপ নেয় এবং পরে তা প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। কয়েক মাস একসঙ্গে সময় কাটানোর পর তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। এক পর্যায়ে মুসলিমা অসুস্থ হয়ে পড়লে ইমন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকেই বিষয়টি দুই পরিবারের নজরে আসে।
প্রথমদিকে পরিবার বিয়েতে রাজি না থাকলেও পরে দুইজনের বোঝানোর পর উভয় পরিবার সম্মতি দেয়। এরপর ৭ এপ্রিল তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মুসলিমা বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সবকিছু ঘটলেও অনুভূতিটি গভীর ও আন্তরিক। বন্ধুত্ব থেকে ধীরে ধীরে ভালো লাগা তৈরি হয়ে ইমনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া তার জন্য বড় প্রাপ্তি। পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হওয়ায় তারা স্বস্তি অনুভব করছেন। এখন তাদের লক্ষ্য পড়াশোনা শেষ করে একসঙ্গে ভালো কিছু করা এবং সুন্দরভাবে জীবন গড়ে তোলা।
প্রেমের শুরু প্রসঙ্গে ইমন জানান, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে কলাভবনের সামনে প্রথম দেখাতেই মুসলিমাকে তার ভালো লেগে যায়। পরে পরিচিত এক বান্ধবীর মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ শুরু হয়। ধীরে ধীরে কথা বলা, আড্ডা এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরিবারে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অসুস্থতার সময় হাসপাতালে নেওয়ার পর মুসলিমার ভাইয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর বিষয়টি দুই পরিবারেই জানাজানি হলে সবাই রাজশাহীতে এসে আলোচনা করেন এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
প্রথমদিকে পরিবারের কিছু আপত্তি থাকলেও, তারা যেহেতু এখনো শিক্ষার্থী, তাই পড়াশোনা শেষ করে বিয়ের পরামর্শ ছিল। তবে ইমন ও মুসলিমা পরিবারকে বোঝাতে সক্ষম হন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা জানান, পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা এবং ভালো কর্মসংস্থানের মাধ্যমে একটি সুন্দর জীবন গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ছাত্র অধিকার পরিষদের প্যানেল থেকে সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক পদে অংশ নেন ইমন।